রোম সম্রাট হিরাকল এর দরবারে প্রিয় নবী সম্পর্কে হযরত আবু সুফিয়ান (রাঃ) এর সত্য সাক্ষ্য - ১ম পর্ব

রোম সম্রাট হিরাকল এর দরবারে প্রিয় নবী সম্পর্কে হযরত আবু সুফিয়ান (রাঃ) এর সত্য সাক্ষ্য - ১ম পর্ব


রোম সম্রাট হিরাকল এর দরবারে প্রিয় নবী সম্পর্কে হযরত আবু সুফিয়ান (রাঃ) এর সত্য সাক্ষ্য - ১ম পর্ব 


প্রিন্সিপাল হাফেয মুহাম্মদ আব্দুল জলীল (রহঃ)


৬ষ্ঠ হিজরীতে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং মক্কাবাসী সরদার আবু সুফিয়ানের মধ্যে ১০ বৎসরের জন্য এক শান্তি চুক্তি সম্পাদিত হয়। এই চুক্তির নাম হোদায়বিয়ার সন্ধি। এই চুক্তির পর ৭ম হিজরীতে রাসুল মকবুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন রাষ্ট্রে ইসলামের দাওয়াতপত্র পাঠান। রোম সম্রাট হিরাকল -এর নিকট দাওয়াতী পত্র পাঠান হযরত দাহ্ইয়া কালবীর (রাঃ) মাধ্যমে। তিনি এই পত্র পৌছান রোমের অধীনস্থ বুছরার সামন্ত রাজার কাছে। তিনি এই পত্র হস্তান্তর করেন রোম সম্রাট হিরাকলের নিকট।

এসময় আবু সুফিয়ান বাণিজ্য উপলক্ষে শাম দেশ ভ্রমনে ছিলেন। সম্রাট হিরাকল পত্র পাঠ করে জানতে চাইলেন- আরবের কোরেশ সম্প্রদায়ের কোন নেতৃস্থানীয় লোক শাম দেশে আছে কিনা? দরবারী আমলারা জানালো- হ্যাঁ বাণিজ্য কাফেলায় মক্কার কিছু নেতৃস্থানীয় লোক আছে। তাদেরকে দরবারে ডাকা হলো। তাদের সাথে আবু সুফিয়ানও উপস্থিত হলেন। সম্রাট তাদেরকে জিজ্ঞেস করলেন- যিনি নবী বলে দাবী করছেন- তাঁর সম্প্রদায়ের মধ্যে এখানে তাঁর ঘনিষ্ঠ কেউ আছে কিনা? আবু সুফিয়ান বললেন- আমি। তখন তাঁকে সামনে বসানো হলো এবং অন্যান্য লোকদেরকে বসানো হলো তাঁর পিছনে। সম্রাট হিরাকল দোভাষীর মাধ্যমে বললেন- আমি আবু সুফিয়ানকে ঐ ব্যক্তি (নবী) সম্পর্কে কিছু প্রশ্ন করবো- যদি সে মিথ্যা বলে তাহলে আপনারা তাকে মিত্যাবাদী বলে ঘোষণা করবেন। হযরত আবু সুফিয়ান (রাঃ) বলেন- "যদি মিথ্যা বলে অপদস্ত হওয়ার ভয় না থাকতো তাহলে খোদার কছম, আমি ঐ সময়-অবশ্যই মিথ্যা বিবৃতি দিতাম”। 

এবার শুরু হলো সম্রাট ও আবু সুফিয়ানের মধ্যে দোভাষীর মাধ্যমে প্রশ্নোত্তরের পালা।


সম্রাটঃ তোমাদের মাঝে ঐ লোকটির বংশ পরিচয় কেমন?


আবু সুফিয়ান : তিনি আমাদের মধ্যে সম্ভ্রান্ত বংশীয়।


সম্রাট হিরাকলঃ তাঁর পিতৃপুরুষদের মধ্যে কি কেউ কখনো বাদশাহ্ ছিলেন?


আবু সুফিয়ানঃ না ।


হিরাকলঃ তোমরা কি কখনো তাঁকে নবুয়াত দাবীর পূর্বে মিথ্যা বলতে শুনেছো?


আবু সুফিয়ানঃ না ।


হিরাকলঃ সমাজের কোন শ্রেনীর লোক তাঁর অনুসরণ করছে? সম্ভ্রান্ত প্রভাবশালী লোকেরা- নাকি দুর্বলেরা?


আবু সুফিয়ান : সম্ভ্রান্ত শ্রেণীর লোকেরা নয়- বরং দূর্বল শ্রেনীর লোকেরা।


হিরাকলঃ তাঁর অনুসারীর সংখ্যা কি বাড়ছে নাকি কমছে?


আবু সুফিয়ানঃ কমছেনা- বরং দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।


হিরাকলঃ যেসব লোক তাঁর ধর্মে দীক্ষিত হচ্ছে- তারা কি কেউ তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে ধর্ম ছেড়ে দিয়েছে?


আবু সুফিয়ানঃ না।


হিরাকলঃ তোমরা কি কখনো তাঁর সাথে যুদ্ধ করেছো?


আবু সুফিয়ানঃ হ্যাঁ ।


হিরাকলঃ ঐ যুদ্ধের ফলাফল কি?


আবু সুফিয়ান : আমাদের ও তাঁর মধ্যে যুদ্ধের পালাবদল হচ্ছে। কখনো তিনি বিজয়ী হচ্ছেন, কখনো আমরা বিজয় লাভ করছি।


হিরাকলঃ তিনি কি কখনও সন্ধির শর্ত ভঙ্গ করেছেন?


আবু সুফিয়ানঃ না। কিন্তু আমরা বর্তমানে তাঁর সাথে একটি নির্দিষ্ট সময়ের (১০ বৎসর) জন্য চুক্তিতে আবদ্ধ আছি। জানিনা, শেষ পর্য্যন্ত তিনি কি করেন। এর অতিরিক্ত কিছু বলা আমার পক্ষে সম্ভব ছিলনা।


হিরাকলঃ তোমাদের দেশে এর পূর্বে কেউ কি নবুয়ত দাবী করেছিল?


আবু সুফিয়ানঃ না ।


(প্রশ্নোত্তর সমাপ্ত- এবার মন্তব্য)


হিরাকল : (দোভাষীর মাধ্যমে) আমি তোমাকে তাঁর বংশ পরিচয় জানতে চেয়েছি। তুমি বলেছো- সম্ভ্রান্ত বংশীয়। এমনিভাবে সমস্ত নবীগণই সম্ভ্রান্ত বংশীয় হয়ে থাকেন। আমি জানতে চেয়েছিলাম- তাঁর পিতৃপুরুষের মধ্যে কেউ বাদশাহ ছিল কিনা? তুমি বলেছো না। যদি কেউ এরূপ থাকতেন- তাহলে মনে করতাম। তিনি বংশীয় রাজত্ব পূনরূদ্ধার করতে চান। তুমি বলেছো- তাঁর অনুসারীগণ সমাজের দূর্বল লোক। প্রকৃতপক্ষে দুর্বল ও অত্যাচারিত শ্রেণীর লোকেরাই প্রথমে নবীদের অনুসারী হয়ে থাকে।

তুমি আরো বলেছো- নবুয়ত দাবীর পূর্বে তিনি কখনও মিথ্যা বলেন নি। এতে আমি বুঝতে পারলাম- যিনি জাগতিক ব্যাপারে মিথ্যার আশ্রয় নেন না। তিনি কি কারনে আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করতে যাবেন? তুমি আরো বলেছো- তাঁর ধর্ম গ্রহণ করে কেউ উক্ত ধর্ম ত্যাগ করেনি।

(সুন্নী বার্তা, বুলেটিন নং ৬৪,পৃঃ ২৫-২৬)


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন